৩টি কবিতা
রোহণ কুদ্দুস
ফিরে এল পিজ্জা বালক
পিজ্জা নিয়ে আমার আদেখালপনা গেল না আর এ জীবনে। ও মুরশেদ, সহায় হও এই তুচ্ছ ইন্দ্রিয়খোর বান্দার প্রতি।
প্রত্যেক অরিগানো স্যাচের একটা দুর্বল জায়গা থাকে। আমি সেই সুন্দরতম স্থানে বসে দেখি যে সব রমণী একেলা লাঞ্চে আসে, পুরুষ বিহনে তাদের কর্কশ ঠোঁটে লেগে থাকা বাড়িওয়ালিসুলভ হাসি। বা আরও এগিয়ে অনাঘ্রাতা গ্রীবায় ঝুলে পড়ি, পেন্ডুলামের মত দুলে উঠি – পতিত হব নাকি হব না, হ্যামলেট?
আমার একিলিসতম স্বপ্নের সংজ্ঞার মত টিশার্টে-জিনসে তিনি শুক্রবার গোড়ালির ওপর রেখেছেন তেরছা নজর। আর দ্যাখো বিনা আমন্ত্রণেই আমি কেমন চিঁ-হাঁ-হাঁ-হাঁ হ’য়ে উঠলাম। মেঘ ভেদ ক’রে (ট্যাবু যেমন হতে পারে) এসে কোমরের মত জড়িয়ে ধরলাম নিরীহ গলায় – “লাব্বাইক।”
গৃহীদের চৈতন্য হয় সেই বেলা। ফেংশুই দোকানের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে দিব্যরথ প্রত্যেক ক্রয়ের সাথে অযাচিত শান্তির মত ক'রে ওম নিয়ে বাড়ি ফেরাফেরি চালু হয়।
পতনের আগে ছিল কবি। পরে এক আদমখোর। সবার শেষে পিজ্জা বালক এসে দাঁড়াল, দাঁড়িয়েই থাকে।
ভীম-রতির পর যা থাকে
চাবির ওপর হেসে খেলে বেড়ায় আঙুল তাঁর এই বয়সেও ফুশমন্তর চান্স মিস করেন না। কিউবিকলান্তরে একা একা মেলে বেড়ান, সুন্দর ক’রে শেষে লেখেন রিগার্ডস।
তা এই হলেন এককথায় আমাদের আদিমশুমারির প্রথম দিকের জীবাশ্মমূলক ধড়। মাথা তো কবেই কাগজওয়ালা নিয়ে গেছে। কবজির পরে আর যেটুকু আস্তিন তাতেই মটরদানার মত মস্তিষ্ক সনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছিল আর তিনি ঝোপ বুঝে বললেন – “পরশপাথর।”
ওঃ! তারপর সে কী হিট! সম্বর্ধনার ফাঁকে সবাই আড়চোখে দেখছে ডিজ়নির কার্টুন নায়িকাদের স্তনসন্ধি কিন্তু দারুণ পেলব, প্রশংসার অছিলায় ছুঁয়ে দেখে পোস্টার কালার শুকিয়ে আর কোথাও বৃন্ত মনে হয় কি না। গাম্ভীর্য ঢাকতে তিনি নখের কোণ ভেঙে মুখে দেন।
“বুরা না মান গালিব” দিনের সপ্তম চিঠিতে লেখা হয়। তখন গালিব বারের বাইরে দাঁড়িয়ে আকাশ ফাটিয়ে অটোরিক্সা ডাকছেন অসহায়। তাঁর অজুহাতে আর সবাই রিপন স্ট্রিটের এদিক ওদিক দেখে জিপার খুলে আড়াল নিচ্ছে।
ঘরের বিভিন্ন কোণ থেকে স্পাই ক্যাম স্নান ধরছে তখন, কুয়াশা, আর একটা মানুষের পৃথক মাত্রায় যতিচিহ্ন প্রয়োগের অপারগতা।
ছোট রাজকুমার (আরও একবার অনুদিত)
আর এইখান থেকে – আরও একবার এঁকে দেখালাম – এই একটা তারার নিচে একটা রেখার মত বালির ঢেউ – এইখান থেকে
যদি তোমরা দেখতে পাও সোনালি চুল লাল স্কার্ফের এক সুন্দরজন কিছুতেই তোমায় উত্তর করতে চাইছে না, তাহলে জেনো এই সে। আর সাথে সাথে আমায় খবর দিও। যদিও আমার কবরের সাথে কোনও পি-টু-পি ব্যাপার থাকবে না আর এক বছর পর।
তবু এটুকু জানতে পারব সে ফিরে এসেছে (আমাদের স্বান্তনার জায়গাগুলো বড় অদ্ভূত)। আর জানব সে ফিরে এসেছে তার একমাত্র গোলাপ গাছটা ছেড়ে। বা সুন্দর একরত্তি জ্বালামুখের একটা আগ্নেয়গিরি। বা একটা ৫০ মিটার ব্যাসার্ধের গ্রহ।
আর যে গ্রহে রাজত্ব করে ভৌগোলিকরা। বিজ্ঞানীরা। পরজীবিরা। নিরস্তিত্ববাদীরা। বা নিতান্তই নিরুপায় রাজার মতই কোনও লোক। সবাইকে সতর্ক থাকতে বোলো। দূর গ্রহ থেকে খামখেয়ালি পাখিদের পরিয়ায়ী সুযোগে যে কোনওদিন সে ফিরে আসতে পারে।
কতবার ও আমার ছোট রাজকুমার, কতবার আর বুঝিয়ে বলব বলো আজও এ গ্রহের আলোচকরা একবারে বুঝে নিতে পারেন না কিছু কিছু কাব্যভাগ। কিছু কিছু মন চিনচিন।


আপনার মতামত (সম্পাদকের অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে)