২টি কবিতা
রুনা বন্দ্যোপাধ্যায়
একটুকু ছোঁয়া...
বাঁচিয়ে চলুন। সঙ্গমমুখী নদীর এপারে ওপারে ওই তো উপুরঝুপুর ডাক। ছোঁয়াছুঁয়ির ব্যতিক্রমী মুখগুলোয় গড়ানো সন্ধ্যা নিবিড় হলে, দেখে নিন নিতম্বধ্বনি বাজে কি বাজেনা দুলকিলতায়। লহর থেকে ললিতকলায় ওই তো একটু সরেজমিন।
ফাল্গুনী রচনায় আসুক না অসময়; বেবাক বিরতির অস্থিরপঞ্চম। বিমোহিত ফুচকার জলতরঙ্গে কতটা তুফান কতটা মেঘমেদুরতা। পিতজাহাটের অনিশ্চিত বলয়ে ঠিকানা হারালে, হাটুরের ঠোঁটে থমকানো চিইস; অসম্বন্ধ প্রলাপ যাপন। অমৃতের আশেপাশে যেটুকু অধরবৃত্তান্ত।
নূপুরের তালগুণে শ্রবনডানা উথালপাথাল। চকিত মনের ওই সীমানায় আকাশবোনা থাক না পড়ে। ভাবনঘরে কাঁপন যদি লেগেই থাকে, সুরে ও লয়ে ক্ষান্তি দিন। গড়েরমাঠের মলিন বিকেল; ঝালমুড়িতে অস্তরাগ; একটু দাঁড়ান। রাগের বিলম্বিত আর অনুরাগের বর্ণালী ছেঁকে আঙুলে জড়িয়ে নিন যেটুকু ধূসর।
এই রঙে এই রাগে আঙুল ছুঁয়ে মিলিয়ে নিন ফাল্গুনী রচিত হতে চেয়েছিল কিনা। ক্ষণিকের ফাঁকে ফাঁকে পলাশের লাজে লাজানো সুখের বালাই রচিত হওয়ার অবকাশ কতটুকু।
বিরহ মধুর হল আজি...
মধুরাতে ষোলোকলার সর্বনাশ; পূর্ণ হবার আগেই যারা জ্যোৎস্না খুঁজে মরে; আঙুলের আলতো পরশ রাখুন যামিনীপোহানো বিরহের নদীমাতৃকতায়।
মিলনাত্মক নিক্কণের ফাঁকটুকু জুড়ে নিরেট রমণীয়তা; দেয়াল বেয়ে আদর্শজনিত তৃষ্ণাগুলোয় পাখিসমতা। ছাদ বলতে প্রেমের প্রত্যয়িত প্রতিলিপি। নকলনবিশ চোখে মেঘ বলতেও ওইটুকু আসমানী।
দূরকে সুদূর করতে চাওয়ার প্রতিটি বাঁকে নিতান্ত মঞ্জীরসংশ্লেষ। পথহারা প্রবণতাগুলোয় অবিনাশ তুমিও নাশের নামাবলী হলে? আমার চৌখুপি ঘরে চিকফেলা বাতায়নে দেখো, এখনও সুগন্ধধারা। বিরহের তাম্রলিপি তামাদি হলে সমস্ত সুর প্রেক্ষাপট মাত্র।


আপনার মতামত (সম্পাদকের অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে)