৩টি কবিতা
মুক্তি মন্ডল
উপত্যকা
ভূমিগর্ভ থেকে গৃহত্যাগী মানুষেরা
নি:স্ব বৈঠায় লেগে থাকা রোদে ভ্রমণে গেছে
পৃথিবীর সকল কঙ্কাল
কুয়াশার মেঘে বিজলি-চমক
উষ্ণতার কাচে অসংখ্য স্মরক
গভীর রাতে বর্ষণের শব্দে অগ্নিফুলের তোড়ায়
জ্বলে উঠবে যেন!
আমাদের বিবর্তিত মুখোশের রঙে
বিস্মরণ আর
উড়ে যাওয়া ধুলোর পাতায় উন্মাদিনীর দেহ
ফেটে জন্ম নিচ্ছে লাস্যময়ী
উপত্যকা
অস্পষ্ট গৃহস্থ মানুষেরা উপত্যকায়
প্রত্যহ স্মারকের পৃষ্ঠা ছিঁড়ে আকাশে ওড়ায়।
গ্রন্থপাঠ
খণ্ডখণ্ড মেঘ বক্ষউন্মোচনে
হারায় পাহাড়ের ঢালে
শূন্যচক্ষুদ্বয় হর্ষমন্থনে চৌচির
হাওয়ার ফাঁদে
- বৃক্ষবল্কলে মানুষের ঘ্রাণ
- সমুদ্রস্নান
বালুর অক্ষরে লিখে রাখা গ্রন্থের পৃষ্ঠায়
পতঙ্গজীবন
আর
প্রলাপের ব্যঞ্জনে কান পেতে শুনি
বাতাসে ভাসে পুরনো কালের ধ্বনি
মধ্যরাতের সংকেত
অপ্রকৃতিস্থ কাচঘরে
গভীর রাতের সংযত শীৎকারধ্বনি
ওড়ে।
কোথাও কী তবে দরোজার হুড়কো পাশ ফিরলো?
যে স্টেশন ফাঁকা - তার ইটের ভিতর শ্রমিকের বিষণ্ণ
মুখের খণ্ডাংশ।
লোহার শিকগুলোতে মোমালোর
চিকন শরীর। জানালার কাচে ছিটকে গেলো কাদের
ভাঙা চুড়ির টুকরো?
বাইরে ঝড়ের বার্তা হাতে কেউ দাঁড়িয়ে নেই,
তবু দৃষ্টিতে উঠে আসছে প্রেরকের হাড়, মাংশ...


আপনার মতামত (সম্পাদকের অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে)