এ পর্বের কবি

খবর দখল

বিজয় দে

পরিচয়ের অপেক্ষা রাখেন না, কিন্তু কবিতাগুলো নিঃসন্দেহে অপরিচিত।
আসুন, পাঠ করি তাকে।


খবর দখল ১

শীতকাল                 যারা দখল করতে চায়
তারা কোনও কবিতায় থাকে না’
মুখ হা হা করে তীব্র হাহাকার                 ঘুম আসছে ঘুম আসছে
                                              ঘুমের ঘন ঘন দাপট
ছাপাখানা চাপা গলি                 খবরাখবর-রচনাবলী
যার যত চিতাকাঠ                 তার তত কবিতাপাঠ
একটা কাক ছোঁ মেরে
সব ঠান্ডা হেডলাইনগুলো মুখে তুলে নিয়ে চলে গেল


খবর দখল ২

যত দখল                 তত দেশ                 তত প্রেম

ঘুমের সাথে সাথে কিছু ছোট ও বড় স্বপ্ন
আছড়ে পড়ছে দরজায়

আলমারির ভেতরে এত কুয়াশা
সিন্দুকের ভেতরে এত বরফ

শীতকাল কি কৃষকের বাস্তুজমি যে দখল হয়ে যাবে


খবর দখল ৩

দখল মানে                 আজি দক্ষিণ দুয়ার সারাদিন খোলা
সুতরাঙ                 এসো হে                 এই সুযোগে শুয়োরের বাচ্চাদের শরীর থেকে
সব লোমগুলো তুলে ফেলি

ঘুম এত জোরে                 এত জোরে জোরে ঘুম                 ঘুমের এ’রকম নামডাক
অক্ষর ফেটে ফেটে চৈতন্য চৌচির

শরীরের শীতকাল এবং শীতের কালক্রম
থেকে রক্ত ঝ’রছে যেন


যেরকম স্বপ্ন সেরকম

দেশ মানে দ্যাশের মাটি পেট বরাবর মুড়ির বাটি
মুড়ি ফুরোলে পা ছড়িয়ে আকাশমুখিন কান্নাকাটি

যদি নিজে নিজে স্বপ্ন দ্যাখো                 তা’                 হলে দেশ এত বড়
এবং দেশ এত ভারী
তখন স্বপ্নে সামান্য হাওয়া হলেও জানালার কাচ অনায়াসে ফেটে যেতে পারে

দেশ সব পারে                 কিন্তু ভাঙা কাচ জোড়া দিতে পারে না
দেশ সব পারে
                               কিন্তু আমলকি গাছের ডালে বসে শীতকাল বানাতে পারেনা


প্রেম লিখিত

প্রথমত সে ছিল অমুক বাঁচাও                 কিম্বা সে ছিল তমুক বাঁচাও কমিটি‘র
ভেতরে একটি অস্পষ্ট সরলরেখা                 বা সে ছিল
সেই সরলরেখার শরীরের এপার ওপার
শরীর না হয়ে থাকলে কাউকেই নাকি মানায় না

একমাত্র স্বপ্ন জানে
মাঝরাত্তিরে নিপাত যাও নিপাত যাও ডাক ওঠে কেন

হাওয়ার হু হু আর ঘুমের ঘু ঘু
মাথার ওপর ভেঙে পরলে দুঃস্বপ্ন

তখন লিখিত প্রেম ঢং ঢং ঢঙ ঢঙ
তখন অলিখিত ছুটি


প্রসঙ্গ

পদবীর প নিয়ে সাধারণত আমার কোনও সাধ নেই
উপাধির পা নিয়েও আমার কো্নও উৎসাহ নেই
                                              দখল না দেশ
দেশ না প্রেম                 গুপ্ত না হালদার

এসব নিয়ে আমার কোনও ঊদ্দীপনা নেই

শীতকাল না শীৎকার
এসব নিয়ে আমার আর কোনও ইস্তাহার নেই

‘হৃদয়ের ভেতরে একটা দ কেন একা একা বেঁচে থাকবে’
আপাতত এটুকুই আমার মতামত


আজ বিপ্লবের জন্মদিন

শীতকালের মাথায় লাল উলের টুপি পরিয়ে দিলে                 মনে হয়
মনে হবেই                 বিপ্লবের এবারও বাচ্চা হোলো

বিপ্লবকে চেনেন তো                 একেবারে পাগল পাগল

বাচ্চা জন্মায়                 বাচ্চা জন্ম নিচ্ছে                 বাচ্চা জন্মাইতেছে
কিন্তু বিপ্লব প্রতিবার নিজের বাচ্চাকে                 ঠিকঠাক চিনতে না পেরে
পেছনের গেট দিয়ে পালিয়ে যায়
এবং ক্রমশ বাচ্চার কথা ভুলে যেতে ওর কোনও অসুবিধা হয় না

জন্মানোর পর’                 পৃথিবীর সব বাচ্চাই বিপ্লব
বিপ্লবের জন্মদিনে বেড়াতে এসে
কখনও কখনও আমার এরকম মনে হোলো


সম্পর্ক প্রথম

সম্পর্ক যে রকমই হোক
আমি শীতকালের নিচে কখনও নামিনা

আমার তো একটা সন্মান আছে
যেখানে কাঁথামুড়ি দিয়ে এখনও অনেকে আগাথা ক্রিস্টি পড়ে

সম্পর্ক যেমন তেমন                 তবু যেন কিছু মাহুতবন্ধুদের মতো
অনুকূল টান                 বান্ধবীর স্বপ্নের ভেতরে ঢুকে গানও শোনা হয় প্রচুর

একটি গান                 এরকম দ্যাখা গেছে
‘হে মাধবী                 ভাই শীতকালে এত দ্বিধা কেন
শুনেছো নিশ্চয়ই সম্পর্ক প্রথম পুরষ্কার নতুন খেজুর গুড়’


শীতকাল অনেক ঠোঁটের শীতল

অনেক সরস্বতীর ঠোঁট                 অনেক লিপস্টিক
অনেক বড়বাজার                 রাজহাঁস অনেক প্রতীক

অনেক পুস্তকের ভেতরে                 অনেক দস্তানা
অনেক হানাবাড়ির ভেতরে অনেক হাস্নুহানা

অনেক পায়রার ভেতরে অনেক সায়রাবানু
অনেক লাড্ডুর ভেতরে অনেক লেডি রাণু

শীতকাল অনেক                 অনেক ঠোঁটের শীতল
ত্বকের ছোট ছোট গল্প                 জীবিত মানুষের চুম্বন
ভুলে যেতে যেতে মৃত মানুষের চুম্বন হয়ে যায়


প্রান্তরের ঠান্ডা এসে অন্তরে লাগে

প্রান্তরের ঠান্ডা এসে অন্তরে লাগে
সময় সময় অন্তর অসময়ে অবান্তর

অন্তর কখনও আন্তর্জাতিক ঘুম যেন
আলাদা রাষ্ট্রসঙ্ঘ
সেখানে এখনও আমার ঘুমন্ত প্রস্তাবগুলি

প্রস্তাবের স্বভাবে প্রচুর বাঙালি খিদে
খোদাই করা আছে প্রাচ্যের প্রচলিত খাদ
এবং প্রাচীন খ্রিষ্টাব্দের কিছু কিছু ক্ষুদিরাম

বাহান্ন তাসের তেপ্পান্ন ইতিহাসে আমি এক ফোঁটা বিশ্রাম
যুদ্ধ লিখতে গেলে কেবলই কলমের ক্রুদ্ধ চোখমুখ

মাঝে মাঝে ঘরের বাইরে আসি                 শ্বাস নিই                 সিগারেট ধরাই
ধীরে ধীরে প্রান্তরের শান্ত ঠাণ্ডা এসে অন্তরে লাগে